গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় ভর্তুকিসহ দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দাবি মালিকদের

 

ইমাম হোসাইন অপন: করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকার প্রণোদনা হিসাবে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বিষয়টি সাধারণ জনগণের কাছে অনুদান মনে হলেও গার্মেন্টস মালিকদের কাছে এটি শুধুই ঋণ, যা ২ শতাংশ সুদহারে পরবর্তীতে শোধ করতে হবে। সরকার থেকে বলা হয়েছে এই ঋণের টাকায় এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত পোশাক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। এ তহবিলের অর্থ দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে। পরে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত সার্কুলারের (ঙ) নং শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ তহবিল হতে কোনোভাবেই শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা প্রদান করা যাবে না| সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদনে বলা হয়, শতভাগ রপ্তানীমুখী তৈরী পাশোক শিল্পে ৪৫ লক্ষ শ্রমিক ছাড়াও প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ কর্মকর্তা রয়েছে যারা মানবসম্পদ, প্রশাসন, মার্চেন্ডাইজিং, মার্কেটিং, এইচআর, এডমিন, কমপ্লায়েন্স, কমার্শিয়াল, প্রোডাকশন, প্রোডাকশন প্লানিং, আইই, একাউন্স, অডিট ও কোয়ালিটি বিভাগে কর্মরত সকলেই এ শিল্পের উৎপাদন, আমদানী-রপ্তানীর কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত। তাছাড়া, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ অনুযায়ী দেশের একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না| এ দুঃসময়ে কর্মকর্তাদেরকে বাহিরে রেখে শুধুমাত্র শ্রমিক-কর্মচারীকে প্রণোদনার মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত একটি অমানবিক ও আত্মঘাতী।

http://www.thikana.us/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%b8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%9f/?fbclid=IwAR1YCzJmnKS3R-rnlhujvt2bzVGTl32Objf-rzXeqGiq1GAN2mQrxOfATfE

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত সার্কুলারের (ঙ)নং শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ তহবিল হতে কোনোভাবেই শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করা যাবে না| কিন্তু শতভাগ রপ্তানীমূখী তৈরী পোশাক কারখানাতে ৪৫ লক্ষ শ্রমিক ছাড়াও প্রায় সাড়ে নয় লক্ষ কর্মকর্তা রয়েছে। যারা এ শিল্পের উৎপাদন ও আমদানী-রপ্তানী এবং রপ্তানির যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনের কাজে সরাসরি জড়িত।

হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবিক পক্ষে বিড়ম্বনা মনে করছেন গার্মেন্টস মালিকরা। কঠিন এই সময়ে যখন নিশ্চিতভাবেই দেশের পোশাক কারখানাগুলো করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। পরে যদিও করোনা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন হয় তখন বায়ারদের কার্যাদেশের অভাবে কারখানা চালু রেখেও উৎপাদিত মালের রপ্তানি সম্ভাবনা না থাকলে কারখানাগুলো মূলত চালু থেকেও অচল হয়ে পড়বে।এতে শ্রমিক বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ চালিয়ে যেতে হবে মালিকদেরকে। চরম এই পরিস্থিতিতে সরল সুদে প্রণোদনা দিয়ে সরকার এক অর্থে কোনও দায়িত্ব নেয়নি বলে মনে করছেন গার্মেন্টস মালিকসহ সংশ্লিষ্টজনেরা।

গার্মেন্টস মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে এ্যাকর্ড আর এ্যালায়েন্সের কারণে প্রতিটা কারখানার মালিক নতুনভাবে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ইতোমধ্যে অর্থ সংকটে ভুগছেন। তারা মনে করছেন, প্রণোদনা নামের এ ঋণ শুধুমাত্র গার্মেন্টস বন্ধ থাকাকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য দেয়া হচ্ছে। এতে করে তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

এদিকে পোশাক শিল্প মালিকদের এসোসিয়েশন নেতাদের নেতৃত্ব নিয়ে অনেক গার্মেন্টস মালিকের ক্ষোভ রয়েছে। কেননা রাষ্ট্রীয় লেজুড়বৃত্তিক আচরণের কারণে গেল বছরগুলোতে ইউরোপের বায়ারদের এ্যাকর্ড আর আমেরিকার এ্যালায়ন্সের সাথে কোনো ধরনের দর-কষাকষিতে যাওয়া হয়নি, গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ সৃষ্টির নামে কোটি কোটি টাকা নতুন করে অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে বাধ্য করা হয়েছে। এতে করে মালিকদের সক্ষমতা কমেছে। এবারও তাবেদার নেতৃত্ব সাধারণ গার্মেন্টস মালিকদের সক্ষমতা নষ্ট করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের প্রণোদনা ফাঁদে পা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গার্মেন্টস মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রণোদনা না বলে একে বলা উচিত শর্তযুক্ত ঋন ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, একদিকে মালিকরা শ্রমিকদেরকে বিনাশ্রমে মজুরি প্রদানে বাধ্য করছে, অপরদিকে সরকারের প্রণোদনার নামে দেয়া ঋণ সুদসহ পরিশোধ মালিকদেরকে করতে হবে, তাহলে প্রশ্ন আসে এখানে সরকারি ভর্তুকি কোথায়?
দুর্যোগ শেষে যদি বায়ারদের অর্ডার বা কার্যাদেশ না থাকে, তাহলে মালিকরা এই ঋণ কিভাবে শোধ করবে?’

অন্যদিকে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের বেশির ভাগ মালিক মূলত প্রথম প্রজম্মের উদ্যোক্তা, এমতাবস্থায় তারাই যদি মুলধন হারিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ে এই শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন। তাছাড়া সাধারণ জনগণের অনেকেই মনে করেন মালিকপক্ষগণ ধনীক শ্রেণীর, এ ধারণা থেকে মালিকদেরকে প্রায়ই বৈষম্যের সংকটে পড়তে হচ্ছে।

আমরা টিভি মিডিয়াতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষনে শুনেছি- তিনি বলেছেন, আমার দেশের একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না| এ দুঃসময়ে কর্মকর্তাদেরকে বাহিরে রেখে শুধুমাত্র শ্রমিক-কর্মচারীকে প্রণোদনার মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের (সরকারের) সিদ্ধান্ত এই সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী বলে আমরা মনে করি না।

এই অবস্থায় গার্মেন্টস শিল্পকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে সংকটকালীন সময়ে ভর্তুকি প্রদানসহ দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানের দাবি মালিকদের। প্রণোদনা না বলে একে বলা উচিত শর্তমুক্ত ঋণ ব্যবস্থা; তবেই করোনা দুর্যোগেও গার্মেন্টস শিল্প আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং আরও গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতির চাকা।
সাংবাদিক, নিউইয়র্ক।

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/dh_pkibf2/hbgroupus.com/system/core/Output.php:538)

Filename: core/Common.php

Line Number: 564

Backtrace:

Database Error

A Database Error Occurred

Error Number: 1290

The MySQL server is running with the --read-only option so it cannot execute this statement

INSERT INTO `ci_sessions` (`id`, `ip_address`, `timestamp`, `data`) VALUES ('3e5f9a3070390b1bd547b14c88f74dbddd24caab', '3.234.210.25', 1665038461, '__ci_last_regenerate|i:1665038461;')

Filename: libraries/Session/drivers/Session_database_driver.php

Line Number: 236